Category: বাণিজ্য

  • জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ দ্বিগুণ, পরিকল্পিত কৌশল জরুরি

    জ্বালানি তেল আমদানিতে খরচ দ্বিগুণ, পরিকল্পিত কৌশল জরুরি

    বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী গত এক বছরে দেশে জ্বালানি তেল আমদানির খরচ দ্বিগুণ হয়েছে। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

    ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোলিয়াম পণ্য আমদানিতে দেশের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,০৬৪ কোটি ডলার। একই সময়ের আগের বছর (২০২৪-২৫) এই ব্যয় ছিল মাত্র ৫১৪ কোটি ডলার, যা এক বছরে প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

    এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদী, পরিকল্পিত এবং সমন্বিত জ্বালানি কৌশল অত্যন্ত জরুরি। নবায়নযোগ্য শক্তি, জলবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য বিকল্প উৎসে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে আমদানি নির্ভরতা কমাতে।

  • নতুন এলএনজি আসায় গ্যাস সংকট সাময়িক প্রশমন

    নতুন এলএনজি আসায় গ্যাস সংকট সাময়িক প্রশমন

    তাজা এলএনজি কার্গো আসায় বাংলাদেশের গ্যাস সংকটে সাময়িক স্বস্তি এসেছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নয় এবং দেশের গ্যাস খাতে গভীর সমস্যা রয়েছে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের গ্যাস উৎপাদনে প্রতিদিন ১.৩ বিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে। এই কাঠামোগত ঘাটতি নতুন এলএনজি সরবরাহ দিয়েও সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়। অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতাও এই সমস্যা দীর্ঘমেয়াদী করে তুলেছে।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, দেশের গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধানযোগ্য নয় এবং এটি আগামী বছরগুলোতে একটি চ্যালেঞ্জ থাকবে। নতুন গ্যাস উৎস খোঁজা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন।

  • গ্যাস সংকটে ফুওয়াং ফুডের কারখানা বন্ধ

    গ্যাস সংকটে ফুওয়াং ফুডের কারখানা বন্ধ

    শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য উৎপাদন কোম্পানি ফুওয়াং ফুড রবিবার দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে কোম্পানিটি জানিয়েছে যে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে তাদের উৎপাদন কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে।

    ফুওয়াং ফুড তাদের পরিচালনার জন্য প্রাকৃতিক গ্যাসের উপর নির্ভরশীল। গ্যাস সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায় কোম্পানিটি বর্তমানে উৎপাদন কাজ সম্পূর্ণভাবে স্থগিত করেছে।

    এই পদক্ষেপ কোম্পানির উৎপাদন এবং রাজস্ব উভয়ের উপরই প্রভাব ফেলবে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরেই কোম্পানি আবার কারখানা চালু করার পরিকল্পনা করছে।

  • বিনিময় হার বাংলাদেশী স্টার্টআপগুলোকে গ্রাস করেছে

    বিনিময় হার বাংলাদেশী স্টার্টআপগুলোকে গ্রাস করেছে

    ঢাকার প্রতিটি উদ্যোক্তার একটি একই ধরনের গল্প আছে। তারা ডলারে তহবিল সংগ্রহ করে কিন্তু টাকায় খরচ করে। ব্যবসা বৃদ্ধি পায়, কখনো দ্রুতগতিতে, কিন্তু দুই বছর পর বিনিয়োগকারীদের সাথে বসে থাকার সময় আপনি এমন সংখ্যা দেখেন যা আপনি যা তৈরি করেছেন তার সাথে কোনো সম্পর্ক নেই।

    আমি সেই টেবিলের দুই পক্ষেই ছিলাম। বুঝতে আমার অনেক সময় লেগেছে যে বিনিময় হারই বাংলাদেশী স্টার্টআপগুলোকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। যখন স্থানীয় মুদ্রা দুর্বল হয়, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা তাদের ডলারে লাভ হ্রাস দেখেন, এমনকি যখন ব্যবসা বৃদ্ধি পায়।

    এই চ্যালেঞ্জ শুধু সংখ্যা নয়, এটি স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের টেকসই বৃদ্ধির সাথে সরাসরি যুক্ত। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো টাকায় লাভজনক হয় কিন্তু ডলারে ক্ষতি দেখায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা পুনরায় বিনিয়োগ করতে নিষ্ক্রিয় হন।

  • ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সিএনজি সরবরাহ বন্ধের দাবি বিকেএমইএ

    ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য সিএনজি সরবরাহ বন্ধের দাবি বিকেএমইএ

    বাংলাদেশ পোশাক নির্মাতা ও রপ্তানিকারক সংস্থা (বিকেএমইএ) ব্যক্তিগত গাড়িতে সিএনজি সরবরাহ স্থগিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি মনে করে এই পদক্ষেপ গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্ষতি কমাতে সহায়ক হবে।

    বিকেএমইএর সদস্যরা অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্যও আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বিশ্বাস করেন যে এই অবৈধ সংযোগ দেশের গ্যাস ব্যবস্থাপনা ব্যাহত করছে এবং সার্বিক সরবরাহের ক্ষতি করছে।

    এই প্রস্তাবের মাধ্যমে শিল্প খাতের চাহিদা পূরণ এবং পরিবহন খাতের মধ্যে গ্যাস সংস্থান আরও কার্যকরভাবে বন্টনের দিকে মনোযোগ দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • মার্কিন শুল্কে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন হারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    মার্কিন শুল্কে বাংলাদেশ সর্বনিম্ন হারে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আরোপিত পারস্পরিক শুল্ক শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বিভিন্ন দেশের উপরও প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এটি বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির একটি সাধারণ পদক্ষেপ।

    বাংলাদেশের উপর সাধারণ শুল্কের অতিরিক্ত হিসেবে বর্তমানে ১০ শতাংশ ট্যারিফ প্রয়োগ করা হচ্ছে। বাণিজ্যমন্ত্রী এই হারকে বিশ্বব্যাপী অন্যান্য দেশের তুলনায় সর্বনিম্নের মধ্যে একটি বলে অভিহিত করেছেন।

    এই তথ্য শনিবার দুপুরে সিলেটে এক অনুষ্ঠানে প্রকাশ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে এই শুল্ক প্রভাব সম্পর্কে সরকার পর্যবেক্ষণ করছে।

  • গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দুই বছরে ৪৫৭ কারখানা বন্ধ

    গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে দুই বছরে ৪৫৭ কারখানা বন্ধ

    বাংলাদেশের শিল্প এলাকায় প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি অর্ডার হ্রাস এবং ঋণের চাপ মিলে ব্যাপক কারখানা বন্ধ এবং কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটিয়েছে।

    ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ রেকর্ড, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর তথ্য এবং মাঠ পর্যায়ের রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত ৪৫৭টি কারখানা বন্ধ হয়েছে। এই সংকট মূলত শক্তি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা হ্রাসের কারণে দেখা দিয়েছে।

    শিল্প বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের পথ সুগম করা ছাড়া এই সংকট থেকে বেরোনো কঠিন হবে।

  • কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের সমান জবাব দেবে

    কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ট্যারিফের সমান জবাব দেবে

    বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র কানাডার ২০ বিলিয়ন ডলার আমদানির উপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ আরোপ করেছে। এই নতুন শুল্ক শনিবার কার্যকর হয়েছে।

    কানাডা ঘোষণা করেছে যে তারা এই ট্যারিফের জবাবে সমান হারে প্রতিশোধমূলক শুল্ক আরোপ করবে। কানাডার সরকার এই পদক্ষেপকে ন্যায্য এবং প্রয়োজনীয় বলে অভিহিত করেছে।

    উভয় দেশের মধ্যে শেষ মুহূর্তের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এই বাণিজ্য যুদ্ধ উভয় দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গ্যাসের সংকটে কারখানা বন্ধ, লাখো শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে

    গ্যাসের সংকটে কারখানা বন্ধ, লাখো শ্রমিকের চাকরি ঝুঁকিতে

    দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাসের চাপ দ্রুত কমে যাচ্ছে। নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া, ময়মনসিংহের ভালুকা এবং গাজীপুরের শ্রীপুরে গ্যাসনির্ভর অসংখ্য কারখানা উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।

    বর্তমানে অনেক কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা ২০-৩০ শতাংশে নেমে এসেছে, যখন কোথাও তা ৭০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এই পরিস্থিতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, লক্ষাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থানকেও হুমকির সম্মুখীন করছে।

    গ্যাসের এই সংকট আর সাময়িক সমস্যা নয়, বরং দেশের শিল্প খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকিতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে হবে এই সংকট মোকাবেলায়।

  • গ্যাস সংকটে ঢাকার পরিবারের রান্নাঘর বদলে যাচ্ছে

    গ্যাস সংকটে ঢাকার পরিবারের রান্নাঘর বদলে যাচ্ছে

    ঢাকায় গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ পরিবারের দৈনন্দিন কাজকর্মে বড় প্রভাব ফেলছে। নাদিয়া আক্তারসহ শহরের হাজারো মানুষ সকালে রান্না করতে গিয়ে গ্যাস না পাওয়ায় অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। শিশুদের স্কুলের টিফিন প্রস্তুত করতে না পেরে অনেক অভিভাবক বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

    এই সংকটের কারণে ঢাকার বহু পরিবারের প্রতিদিনের রান্নার রুটিন সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। যারা সকালের নাশতা এবং টিফিন তৈরিতে গ্যাস ব্যবহার করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তারা এখন অন্য উপায় খুঁজে বের করছেন। বাজার থেকে খাবার কিনে আনা বা অন্য জ্বালানি ব্যবহার করার মতো ব্যয়বহুল সমাধান গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই।

    গ্যাস সংকটের এই পরিস্থিতি শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পরিবারের খরচ বৃদ্ধি করছে এবং জীবনযাত্রার মান প্রভাবিত করছে। প্রশাসন এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে।