Category: মতামত

  • ইসলামে মোনাফেক কারা এবং তাদের আচরণ

    ইসলামে মোনাফেক কারা এবং তাদের আচরণ

    ইসলামি শিক্ষায় মোনাফেক বলতে এমন ব্যক্তিদের বোঝানো হয় যারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রকাশ করে কিন্তু অন্তরে বিশ্বাস রাখে না। কোরআন এবং হাদিসে এদের চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাদের গুণাবলী বর্ণনা করা হয়েছে। এই ধরনের লোকেরা সমাজে বিভ্রান্তি এবং দুর্বলতা সৃষ্টি করে বলে ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

    ঐতিহাসিকভাবে মোনাফেকরা মুসলিম সমাজে বিভিন্ন ক্ষতিকর কাজ করে থাকেন। তারা মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব প্রকাশ করে শত্রুদের তথ্য প্রদান করে, ঐক্য নষ্ট করে এবং অসামঞ্জস্য সৃষ্টি করে। নবী মুহাম্মদের যুগে মদিনায় মোনাফেকদের একটি সংগঠিত দল ছিল যারা ক্রমাগত বিরোধিতা করত।

    ধর্মীয় গবেষকরা বলেন, মোনাফেকতা চেনার জন্য বেশ কয়েকটি লক্ষণ রয়েছে — যেমন মিথ্যা কথা বলা, প্রতিশ্রুতি ভাঙা, আমানত নষ্ট করা এবং ঝগড়া-বিবাদ সৃষ্টি করা। ইসলামে এদের থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

  • বিশ্ব আবাসন দিবসে বাংলাদেশের শহুরে সংকট

    বিশ্ব আবাসন দিবসে বাংলাদেশের শহুরে সংকট

    অক্টোবর ৫ তারিখ বিশ্ব আবাসন দিবস হিসেবে পালিত হয়। এ বছর জাতিসংঘের থিম ‘সবার জন্য যথাযথ আবাসন’। বাংলাদেশকে এই দিবসে তার ক্রমবর্ধমান শহুরে সংকটের মুখোমুখি হতে হবে।

    দ্রুত শহরায়নের এই যুগে বাংলাদেশের প্রধান শহরগুলিতে লক্ষ লক্ষ মানুষ অপরিকল্পিত বসতিতে বাস করে। জনগোষ্ঠীর বিশাল অংশের জন্য মানসম্পন্ন আবাসন এখনও একটি দূরের স্বপ্ন রয়ে গেছে।

    আবাসন শুধুমাত্র একটি ভৌত চাহিদা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য শহুরে আবাসন সংকট সমাধান অত্যাবশ্যক বিষয় হয়ে উঠেছে।

  • প্রশ্ন করার সামর্থ্য ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না

    প্রশ্ন করার সামর্থ্য ছাড়া সমাজ এগিয়ে যেতে পারে না

    মানুষের চিন্তাশক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকাশ হল প্রশ্ন করার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাই মানুষকে স্থবিরতা থেকে মুক্ত করে এবং ক্রমাগত উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। যখন কেউ প্রশ্ন করতে পারে না, তখন জ্ঞান শুধু শব্দ, তথ্য এবং ধারণার একটি সংগ্রহে পরিণত হয়, যা জীবন্ত শক্তিতে রূপান্তরিত হয় না।

    জ্ঞান তখনই সত্যিকারের অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন মানুষ প্রচলিত ধারণাগুলি যাচাই করতে, অজানা বিষয় অনুসন্ধান করতে এবং সত্যের গভীরে প্রবেশ করতে আগ্রহী হয়। প্রশ্ন হল জ্ঞানের চালিকা শক্তি এবং সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি।

    একটি স্বাস্থ্যকর সমাজ তখনই গড়ে ওঠে, যখন মানুষ স্বাধীনভাবে প্রশ্ন করতে এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তা করতে পারে। এই সংস্কৃতি ছাড়া কোনো সমাজই সত্যিকারের অগ্রগতি অর্জন করতে পারে না।

  • অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা: ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগার দর্শন

    অপ্রিয় হওয়ার সাহসিকতা: ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগার দর্শন

    জীবনকে জটিল মনে হওয়ার মূল কারণ আমাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি এবং চিন্তাধারা। দার্শনিক এবং যুবকের এই কথোপকথনে উঠে আসে যে পৃথিবী প্রকৃতপক্ষে সহজ, কিন্তু আমরা নিজেরাই এটিকে জটিল করে তুলি আমাদের তাত্ত্বিক ধারণা দিয়ে।

    সুখে-শান্তিতে বসবাস করার জন্য প্রয়োজন জীবনের প্রতি সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি। যখন আমরা নিজেদের তৈরি জটিলতা থেকে মুক্তি পাই, তখনই প্রকৃত শান্তি আসে। জীবন আসলে বর্তমান মুহূর্তে নির্ধারিত হয়, ভবিষ্যতের চিন্তা নয়।

    ইচিরো কিশিমি এবং ফুমিটাকি কোগার এই দর্শনমূলক সিরিজ আমাদের শেখায় যে অপ্রিয় হওয়ার সাহস এবং সঠিক মানসিকতাই জীবনের প্রকৃত সুখের চাবিকাঠি।

  • সমাজের সমস্যার সমাধান: অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন

    সমাজের সমস্যার সমাধান: অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন

    অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অনেক সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে পারে। এটি স্পষ্ট হলেও অনেকে এই বাস্তবতা উপলক্ষ করেন। মানুষ হিসেবে আমরা প্রাকৃতিকভাবেই বিভিন্ন বিষয়ে চিন্তিত থাকি এবং সেই চিন্তার ধরন আমাদের আয়ের উপর নির্ভর করে।

    বাংলাদেশে যদি সবাই মাসে এক লক্ষ টাকা আয় করত, তবুও সমস্যা থাকত। কিন্তু সেই সমস্যাগুলি বর্তমানে দুই হাজার টাকা আয়কারীদের সমস্যা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হত। আর্থিক সচেতনতা এবং উন্নত অর্থনৈতিক অবস্থা মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করে।

    সমৃদ্ধি শুধুমাত্র বস্তুগত সুবিধা নয়, বরং এটি মানুষকে আরও বেশি সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম করে। উন্নত আর্থিক পরিস্থিতিতে মানুষ শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়নে বেশি বিনিয়োগ করতে পারে।

  • ঢাকায় নারীদের বাস ভ্রমণে নতুন বাধা তৈরি হচ্ছে?

    ঢাকায় নারীদের বাস ভ্রমণে নতুন বাধা তৈরি হচ্ছে?

    ঢাকার নিয়মিত জনবহুল বাসে নারীদের আরোহণ প্রত্যাখ্যানের খবর শোনা যাচ্ছে। এটি যদি রসিকতা হিসেবেও বলা হয়, তবুও এই বিষয়টিকে হালকাভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রতিদিন হাজার হাজার নারী অফিস, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও অন্যান্য গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য বাস ব্যবহার করেন।

    নারীদের জন্য বাস ভ্রমণ শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার বিষয় নয়। এটি তাদের স্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদার সাথে যুক্ত। যদি নতুন কোনো অলিখিত নিয়ম তৈরি হচ্ছে যা নারীদের সর্বজনীন পরিবহনে প্রবেশাধিকার সীমাবদ্ধ করে, তা সমাজে উদ্বেগ সৃষ্টি করতে পারে।

    এই ধরনের রিপোর্টগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা প্রয়োজন। পরিবহন ব্যবস্থা সকলের জন্য সমান এবং নিরাপদ হওয়া উচিত, বিশেষত যেখানে নারী নিরাপত্তা ইতিমধ্যে একটি উদ্বেগের বিষয়।

  • শিক্ষার মান বনাম জনপ্রিয়তা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ

    শিক্ষার মান বনাম জনপ্রিয়তা: বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যালেঞ্জ

    বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার মান নিশ্চিতকরণে বাধ্যতামূলক আইকিউএসি এবং নিয়মিত মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করতে হচ্ছে। এই পরিবর্তনের ফলে বেশিরভাগ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এখন অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে।

    সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি তহবিলের উপর নির্ভরশীল থাকায় তাদের কার্যক্রম ভিন্নভাবে পরিচালিত হয়। কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সম্পূর্ণভাবে নিজস্ব রাজস্বের উপর নির্ভর করে। ফলে তাদের জন্য শিক্ষামান এবং শিক্ষার্থী সন্তুষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে।

    বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শিক্ষাগত উৎকর্ষতা বজায় রেখে একই সাথে প্রতিষ্ঠানের জনপ্রিয়তা এবং টেকসই ব্যবসায়িক মডেল নিশ্চিত করা একটি জটিল বিষয়। নতুন মূল্যায়ন মানদণ্ড মেনে চলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে।

  • ইসলামে উত্তরাধিকারে নারীর ন্যায্য অংশ নিশ্চিতকরণ

    ইসলামে উত্তরাধিকারে নারীর ন্যায্য অংশ নিশ্চিতকরণ

    ইসলামী আইনে পরিবারের আর্থিক দায়িত্বের একটি সুস্পষ্ট বন্টন রয়েছে। পারিবারিক খরচ, স্ত্রী-সন্তানের ভরণপোষণ, দেনমোহর প্রদান এবং অন্যান্য আর্থিক বাধ্যবাধকতা পুরুষের উপর অর্পিত। এই বিস্তৃত দায়িত্ব পরিবারের সকলকে নিরাপত্তা প্রদান করার জন্য নির্ধারিত।

    নারীর ব্যক্তিগত সম্পত্তির ব্যয় পরিচালনা তার নিজস্ব দায়িত্ব নয়, বরং তার আয় এবং সম্পদ সম্পূর্ণভাবে তার নিজের থাকে। এর অর্থ একজন নারী তার উপার্জন বা উত্তরাধিকার সম্পদ পরিবারের খরচে ব্যয় করতে বাধ্য নন।

    উত্তরাধিকারের অংশ নির্ধারণে এই সামগ্রিক আর্থিক দায়িত্ব কাঠামো বিবেচনা করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি পরিবার সদস্যের অবস্থান এবং আর্থিক দক্ষতা স্বীকৃত হয়। এভাবে ইসলাম পুরো পরিবারের জন্য একটি ন্যায়সঙ্গত ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।

  • দুঃখ: মানসিক রোগ নাকি আধ্যাত্মিক পরীক্ষা

    দুঃখ: মানসিক রোগ নাকি আধ্যাত্মিক পরীক্ষা

    দুঃখ ও বেদনা মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। তবে এটি কেবল মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা নাকি আধ্যাত্মিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি পরীক্ষা—এই প্রশ্ন অনেকের মনে থাকে। চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় দর্শন উভয় দিক থেকেই এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

    মানসিক চিকিৎসকরা দীর্ঘস্থায়ী দুঃখ বা বিষণ্নতাকে একটি রোগ হিসেবে দেখেন যার চিকিৎসা প্রয়োজন। এর লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে ঘুমের সমস্যা, আগ্রহ হারানো এবং দৈনন্দিন কাজে অনিহা। এ ক্ষেত্রে পেশাদার সহায়তা, ওষুধ এবং কাউন্সেলিং সহায়ক হতে পারে।

    অন্যদিকে, ধর্মীয় ঐতিহ্যে দুঃখকে মানুষের ঈমান পরীক্ষা এবং আত্মশুদ্ধির একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই দুটি দৃষ্টিভঙ্গি পরস্পর বিরোধী নয়; বরং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য শারীরিক, মানসিক এবং আধ্যাত্মিক যত্ন একসাথে প্রয়োজন।

  • দশ বছর আগে হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে যাওয়ার কথা ছিল

    দশ বছর আগে হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে যাওয়ার কথা ছিল

    ২০১৬ সালের ১ জুলাই। আমেরিকায় পড়াশোনা করার সময় দেশে ছুটি কাটাতে এসেছিলেন লেখক। সেদিন তার বোন তাকে শহরের সেরা বেকারি হোলি আর্টিজান ক্যাফেতে কফি খেতে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

    এটি একটি সাধারণ দিন ছিল, অন্য যেকোনো দিনের মতোই। কিন্তু ইতিহাস সেদিন একটি ভয়াবহ ঘটনায় পরিণত হয়েছিল যা তার জীবন চিরতরে বদলে দেয়।

    এই স্মৃতি-আশ্রিত লেখাটি সেই ঘটনার দশ বছর পর দুঃখজনক স্মৃতি ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা, যেখানে লেখক নিজেই সেই দিনটির কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিলেন।